এই গরমে সুতি কিনুন বুঝে শুনে

কাপড়ের দোকানে সবচেয়ে বেশি যে কাপড়টা এ অঞ্চলের মানুষ বেশি খুঁজে তা হল সুতি কাপড়। গরম কালে আরামের জন্য সাধারণত ভারত উপমাহদেশের মানুষ সুতি কাপড় বেশি ব্যবহার করে থাকে।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, ঘামের গন্ধের জন্য আসলে দায়ী কিছু ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু। যেমন কোরাইনেব্যাকটেরিয়াম বা মাইক্রোকক্কাই। এরা সাধারণত বগলের নিচে বা ত্বকের ভাঁজেই লুকিয়ে থাকে এবং ঘামের মধ্যকার ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যামোইনো অ্যাসিড ও হরমোনগুলোকে ভেঙে ছোট ছোট রাসায়নিক উপাদানে পরিণত করে। আর এই জৈব রাসায়নিক উপাদানগুলোই শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টির জন্য দায়ী।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কৃত্রিম তন্তুর কাপড় বা পোশাক ব্যবহার করলে শরীরে এই জীবাণুগুলো বেশি বেড়ে যায়। কিন্তু সুতি কাপড় পরলে এসব জীবাণুর উপস্থিতি বৃদ্ধির হার কমে যায়। ব্যাখ্যাটা ঠিক কী, তা জানা না থাকলেও এটা সত্যি যে সুতি কাপড়ের মধ্যে বাতাস চলাচল করে ভালো। তাই এটির ব্যবহারে জীবাণু বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে। আর ডিওডোরেন্ট স্প্রে বা সুগন্ধি ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ আড়াল হলেও এগুলো কোরাইনেব্যাকটার গোত্রের জীবাণুর বংশ বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। তাই গরমে হালকা সুতোর তন্তুর তৈরি জামা কাপড় পরা সবচেয়ে ভালো।

এখন প্রশ্ন হলো কীভাবে চিনবেন আসল সুতি। তো মহান সুতিকে চেনারও উপায় রয়েছে। আপনি ট্রাই করে দেখতে পারেন এই পদ্বতিগুলো।


বিক্রেতা আপনাকে যে কাপড়টি সুতি বলে বিক্রি করতে চাচ্ছে আপনার কাছে আপনি সেই কাপড়ের কিছু অংশ মুচড়ে ছেড়ে দিন। যদি মোচড়ানো, ভাঁজপড়া অংশটি ছেড়ে দেওয়ার পর আগের মুচড়ানো, ভাঁজপড়া অবস্থা বজায় থাকে তাহলে বুঝতে পারবেন কাপড়টি সুতি । পিওর কটন তথা সুতি কাপড়ের কাঁচামাল ফাইবার বা আশ এর ইলাস্টিসিটি তথা স্থিতিস্থাপকতা কম । যে কারণে একবার শেইপ চেঞ্জ হলে কিংবা ভাঁজ পড়লে আগের ভাঁজহীন অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না ।


কাপড়ের এক কোনা হতে অতি ক্ষুদ্র অংশ কেটে নিয়ে আগুনে পোড়ান । পোড়া অংশ যদি ছাইয়ের মতো হয়ে যায় তবে নিশ্চিত যে আপনার ক্রয়কৃত কাপড়টি সুতি ।


কাপড়টি সুতি কিনা বুঝবার জন্য কাপড়ের লম্বালম্বি (দৈর্ঘ বরাবর) এবং আড়াআড়ি (প্রস্থ বরাবর) দিক হতে একটি সুতা বের করে নিন । সূতা দুটিকে পৃথকভাবে টেনে ছেঁড়ার চেষ্টা করুন । সুতাগুলি কটন বা সুতি হলে একটানে সহজেই ছিঁড়ে যাবে । সুতি না হয়ে পলিয়েস্টার হলে ছিঁড়ে না গিয়ে ফিলামেন্টের মতন লম্বা হবে ।

সুতি কাপড়ের আশ সাধারণত ১ থেকে ১.৫ ইঞ্চি লম্বা হয় যা টুইস্ট তথা পাক দিয়ে দিয়ে সুতা বানানো হয় । গ্রামে কৃষকদের খড় টুইস্ট তথা পাক দিয়ে দিয়ে দড়ির মত তৈরি করে খড়ের বোঝা বাঁধতে দেখেছেন নিশ্চয় । কটন তথা সুতি সুতাও স্পিনিং মিলে মেশিনে টুইস্ট দিয়ে তৈরি করা হয় । বিপরীতে পলিয়েস্টার সুতা দৈর্ঘ্যে অনেক লম্বা হয়ে থাকে, আর টুইস্টও থাকে না ।

Facebook Comments