শোভন-রাব্বানীকে নিয়ে যা বললেন সাবেক সভাপতি সোহাগ

সাম্প্রতিক বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাদের স্ব পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ-সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা শেষে একথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, আমি তাদেরকে (শোভন-রাব্বানী) বহু বার বলেছি, কমিটি গঠনে মনোযোগী হও। গা ভাসিয়ে চলাফেরা কর না কিন্তু তারা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে, তাদের মতই চলেছে।

আজ যা হবার তাই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আস্থা ও বিশ্বাসকেই তারা শুধু ক্ষতি করেনি, বরং একাধারে দেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন, ছাত্রলীগের গায়ে কালিমা এঁকে দিয়েছে। নয়তো তাদেরকে পদচুত্য করতেন না আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন টকশো অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী ছাত্রলীগের নেতাদের বিষয়ে এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।

‘আমি ওদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বানালাম, কিন্তু ওরা পদ পাওয়ার পর ‘মনস্টার’ হয়ে গেল।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য উল্লেখ করে সোহাগ বলেন, কতটুকু কষ্ট পেলে একজন রাষ্ট্রনায়ক এবং সংগঠনের সাংগঠনিক নেতা এমন কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর একথা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, তারা তাদের পদের মর্যাদা রক্ষায় নিয়োজিত না থেকে বরং নিজেরা গা ভাসিয়ে চলাফেরা করেছেন।

আমি ব্যক্তি সোহাগ কোন বিষয় না, যখন আমি দলীয় পদ বহন করবো, তার মর্যদা অবশ্যই আমাকে রক্ষা করতে হবে। এটা অন্য কেউ এসে আমাকে রক্ষা করে দিতে পারবে না।

দেখেন, আজ তাদের এ অবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। তাদের আরও দায়িত্ববান হওয়া উচিত ছিল। কেননা চেয়ার কারও জন্য স্থায়ী নয়, কিন্তু চেয়ারের মর্যদা রক্ষা করার দায়িত্ব কিন্তু যিনি চেয়ার পেয়েছেন তারই।

উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের সদ্য পদচ্যূত সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলে থেকে সাধারণ জীবনযাপনেই অভ্যস্ত ছিলেন। কিন্তু, পদ পাওয়ার পরপরই তারা রাজধানীর কাঁঠালবাগান ও হাতিরপুলে যথাক্রমে ৭০ হাজার ও ৪০ হাজার টাকার ভাড়া ফ্লাটে জীবনযাপন শুরু করেন।

যদিও ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের কোনো চাকরি অথবা ব্যবসায়ে জড়িত থাকার সুযোগ ছিলো না।

রাব্বানীর দাবি, অবস্থান বিবেচনায় অবিশ্বাস্য মূল্যের হওয়া সত্ত্বেও হাতিরপুলের ২ হাজার ৬শ’ বর্গফুটের ওই ফ্লাট তিনি ভাড়া নিয়েছিলেন মাত্র ৪০ হাজার টাকায়।

মিডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০১৫ সাল থেকে বাবা এবং ছোটভাই তার বাসাভাড়া দিয়ে আসছেন।

গত বছর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরদিন থেকে রাব্বানী টয়োটা কোম্পানির নোয়া মডেলের একটি মাইক্রোবাস ব্যবহার করতে শুরু করেন। তিনি কীভাবে এই গাড়ির মালিক হলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে রাব্বানি বলেন, মাইক্রোবাসের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হয়নি, কিস্তির টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে সেই কিস্তির টাকা তিনি কী করে পরিশোধ করেন, তা জানাতে চাননি।

শোভনেরও এরকম একটি গাড়ি রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকাকালীন ক্যাম্পাসের কোথাও যেতে হলে এই দুজন অন্য সবার মতোই রিকশা ব্যবহার করতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) রাব্বানী গতমাসে ডাকসু ভবনে তার নিজ কক্ষে একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) লাগিয়েছেন।

এ বিষয়ে তার দাবি, এক শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে উপহার হিসেবে এসি লাগিয়ে দিয়েছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে শোভন সিলেট থেকে ঢাকায় ফেরার পথে অনেক নেতাকর্মী নিয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন।

-এস

Facebook Comments