শহর ভর্তি টু-লেট, বিপাকে ভাড়িওয়ালা

ভাড়ার ওপর নির্ভরশীল বাড়িওয়ালারা বিপাকে পড়েছেন। তারা বলছেন, ভাড়াটিয়া ভাড়া না দিলেও বাড়িওয়ালাদের পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব ধরনের ইউটিলিটি বিল। ব্যাংক ঋণেও নেই ছাড়। এর মধ্যে একের পর এক ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে বাড়ির মালিকদের।

বেলাল চৌধুরী নামে ঢাকার মিরপুরের এক বাড়ির মালিক প্রতিবেদক.কমকে বলেন, সরকার অনেক সহযোগিতা করছে, সেটা গরিব আর বড় লোকের জন্য। মাঝে আমরা পড়েছি বিপাকে। জমানো টাকা শেষ, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ঋণ করে চলছি। এভাবে আর কতদিন চলব?

মিরপুরের পল্লবী এলাকার একটি বাড়ির মালিক রাজ্জাক সাহেব। মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া পান। তবে এর বড় একটি অংশই ইউটিলিটি বিলে চলে যায়। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক ঋণের কিস্তি। তিনি জানান, গত মার্চ মাসে তিনটা ফ্ল্যাট খালি হয়েছিল। লকডাউনের কারণে সেগুলো আর ভাড়া হয়নি। এছাড়া যেসব ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া আছেন তাদের অনেকে দুই-তিন মাস ধরে ভাড়া দিচ্ছেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাউকে ভাড়ার জন্য চাপও দেয়া যাচ্ছে না। কারণ সবাই তো সমস্যায়। এর মধ্যে চলতি মাসে আরেক ভাড়াটিয়া চলে যাবেন। এই মাসে তিন মাসের বিল পরিশোধ করেছি। সারা জীবনের আয়, জমি বিক্রির টাকা আর ব্যাংক ঋণ নিয়ে এই বাড়ি করা। এটাই আয়ের একমাত্র পথ। ভাড়াটিয়া না থাকলে চলব কীভাবে? ব্যাংক কয়দিন আমাকে ছাড় দেবে?

অবশ্য বাড়িওয়ালাদের কেউ কেউ বলছেন ভিন্ন কথা।রুপনগরের রাজিব আহমেদ বলেন, এখন মানবিক হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমার বাড়ির ভাড়াটিয়াদের সুবিধাজনক সময়ে ভাড়া দিতে বলেছি। কোনো চাপ নেই।

রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তত ১৫ জন কাউন্সিলর জানান, করোনার কারণে সাধারণ ছুটি থাকার সময় কাজ না থাকায় দুই থেকে তিন মাসের বাসাভাড়া দিতে পারেননি অনেকে। এখনো কাজের সুযোগ কম থাকায় অনেকে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন।

এদিকে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২ হাজার ৩৭১ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে ব্র্যাক মে মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এতে দেখা যায়, ৩৬ শতাংশ লোক চাকরি বা কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। ৩ শতাংশ লোক চাকরি থাকলেও বেতন পাননি। আর দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের ৬২ ভাগই কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। করোনার কারণে ১০টি জেলার মানুষের আয় কমে গেছে। ঢাকা জেলার মানুষের আয় কমেছে ৬০ ভাগ। তাই বাধ্য হয়ে মানুষ ভাড়া বাড়ি ছেড়ে নিজের গ্রামে চলে যাচ্ছে খরচ কমানোর জন্য।

Spread the love

Facebook Comments