লকডাউনের সুযোগে সুন্দরবনে হরিণ শিকার বেড়েছে

করোনাভাইরাসের এই খারাপ সময়ের সুযোগ নিয়ে নানান ধরনের অপরাধের প্রবণতা বেড়েছে। প্রায় সারাদেশ যখন লকডাউনে তখন সুন্দরবনে হরিণ শিকার চক্র আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। সুন্দরবনে আগের তুলনায় হরিণ শিকার বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ কারণে পূর্ব সুন্দরবনে রেড এ্যলার্ট জারিসহ বনরক্ষীদের ছুটিও বাতিল করেছে বন বিভাগ।

পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শরণখোলা স্টেশনের বনরক্ষীরা শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের লাগোয়া সোনাতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করে।

অভিযানে ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ির পাশের গোবরের স্তুপ থেকে ককশিটে বক্সে ভরা ওই হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, এ ব্যাপারে বন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাংস আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মাটি চাপা দেয়া হবে।

এখানেই শেষ নয়, গত বুধবার ও শুক্রবার রাতে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার দুটি গ্রাম থেকে দুটি জীবিত হরিণ গ্রামবাসীরা উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন। শুক্রবার ভোরে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের কাছে মাথাভাঙ্গায় মসজিদ থেকে ফজরের নাম পড়ে বেরিয়ে আসার পথে মুসল্লিরা একটি হরিণ দেখতে পান। পরে হরিণটি পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হলে সুন্দরবন বন বিভাগের জ্ঞানপাড়া বন অফিসের কর্মীরা তা নিয়ে গিয়ে সুন্দরবনে অবমুক্ত করেন।

বুধবার রাতে সাপলেজার কাছে জেলেরা নদীতে সাতারকাটা অবস্থায় একটি হরিণ উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করেন। ইউপি চেয়ারম্যান হরিণটি বন বিভাগের হাতে তুলে দেন। স্থানীয়দের ধারণা এ হরিণ দুটি চোরা শিকারীরা সুন্দরবন থেকে ধরে এনেছিলো এবং শিকারীদের কাছ থেকে ছুটে যায়।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি জেলে সেজে সুন্দরবনে প্রবেশকরা হরিণ শিকারি চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছিল বন বিভাগ। এ সময় হরিণ শিকারের ৫০টি ফাঁদ ও নৌকাসহ মাছ ধরার একটি বড় জাল জব্দ করা হয়।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের নন্দবালা এলাকা থেকে ১০০ মিটার ফাঁদসহ হরিণ শিকারি আব্দুল রাজ্জাককে (৩০) আটক করেছিল বন বিভাগ।

Facebook Comments