যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থী প্রতি ব্যয় দেড় লাখ

Avatar

এম. এ. আর. শায়েল

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) দশ বছরে বাজেট বেড়েছে ৪৫ গুণ। ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাজেটের আকার ছিল এক কোটি ২৩ লাখ টাকা। এবার ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৫৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

এরমধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে ৪৮ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খাত থেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজেটের আকার বেড়েছে ৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। আর শিক্ষার্থী প্রতি বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা যা গত বছর ছিল এক লাখ ৩০ হাজার টাকা।

১৭ জুন সোমবার বিকেলে প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে যবিপ্রবির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডের ৫৫তম বিশেষ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল মজিদ এ বাজেট প্রস্তাব করেন। বাজেট উত্থাপন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যরা তাদের মতামত ও সুপারিশ দেন। পরবর্তীতে তা রিজেন্ট বোর্ডের সভায় অনুমোদিত হয়।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল মজিদ বাজেট বক্তব্যে বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাজেটের আকার ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা ছিল। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে এখন ২০১৯-২০ অর্থ বছরে দাঁড়িয়েছে ৫৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সংশোধিত বাজেট ৪৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ছিল। অর্থাৎ এ বছর বাজেটের আকার ৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বেড়েছে।

তিনি জানান, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সংশোধিত বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতি রাজস্ব বাজেট ছিল ১ লাখ টাকা ৩০ হাজার টাকা। আর ২০১৯-২০ অর্থ বছরে মূল বাজেটে শিক্ষার্থী প্রতি রাজস্ব বাজেট ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি পূর্বেই এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমার সেই দৃঢ় প্রত্যয়ের অংশ হিসেবে এই অর্থ বছরের বাজেটে গবেষণা বরাদ্দ ৫০ লাখ টাকা হতে ১ কোটি টাকা উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গবেষণা সরঞ্জামাদি ক্রয়েও ২৫ শতাংশ বাড়তি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস- যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এই অর্থ যথাযথ ব্যবহার করে আমাদের এই লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এদিকে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও সেবাসমূহ সহজিকরণ এবং দেশ-বিদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক, সমঝোতা চুক্তি ও চুক্তিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিশ্ব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস সেন্টার’ চালুকরণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠনের জন্য রিজেন্ট বোর্ড উপাচার্যকে দায়িত্ব দেয়।

যবিপ্রবির উপাচার্য ও রিজেন্ট বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- যশোর আ লিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম শাহি আলম, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুর রশীদ, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল আলীম, যবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিছুর রহমান, কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ, সরকারি এমএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তালেব মিয়া, সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তোরাব মোহাম্মদ হাসান, যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব, হিসাব দপ্তরের পরিচালক জাকির হোসেন প্রমুখ।

Facebook Comments