বাড়ি ভাড়া মওকুফ প্রসঙ্গে

আলীমুল রাজিব

করোনাকালে পুরো পৃথিবীর মতো বাংলাদেশও লক ডাউন। মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। আয় বন্ধ বিপুল মানুষের। তাই বেশ কিছু দিন ধরে বাড়ি ভাড়া মওকুফ নিয়ে কথা হচ্ছে। তবে বিষয়টির দুই দিকই আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

আমার বাবা তার পেনশনের সব টাকা দিয়ে বাড়ি বানিয়েছেন। এখানেই শেষ না। কিছু গ্রামের জমি বিক্রি করেছিলেন বাড়ি করার সময়। এই রকম একটি সময়ে সবাই আমরা বিপদে তখন অনেকের মন্তব্য দেখে মনে হলও বাড়িওয়ালা জিনিসটি বিরাট বড় বিষয়!

সরকারকে একবারও কেউ কি বলেছেন ইউটিলিটি বিল( পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস) মাফ করে দেন । সাথে আরও কিছু বিল জড়িত আছে নাই বা বললাম। বেশিরভাগ মানুষ ব্যাংক লোন নিয়ে বাড়ি করে থাকেন, সঙ্গে হোল্ডিং ট্যাক্স তো আছেই ।

সরকার যদি এই সব মওকুফ না করেন, তাহলে একজন বাড়ির মালিক কীভাবে আপনার ভাড়া মাফ করবে? কারণ অনেকের এটাই এক মাত্র আয়ের উৎস। যেমন আমার বাবার । কারণ অবসরের সব টাকা দিয়ে তিনি বাড়ি করেছেন । তিনি চলবেন কীভাবে?

কেউ তো নেটফ্লিক্স কোম্পানিকে বলে না, এই দুই মাস ইনকাম নাই ফ্রি দাও। আমার গাড়ি আছে। তেলের টাকা নিও না ফিলিং স্টেশন – আমার ইনকাম নেই। এ কথা বলতে পারি না। আমার টাকা নেই। বিদ্যুৎ যারা উৎপাদন করছে তেল গ্যাস ইউরেনিয়াম দিয়ে কেউ তো তাদের বলতে পারবে না আমাদের ফ্রি দাও। তাহলে আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ফ্রি’ তে চলবে? বাজারে গিয়ে কেউ বলে না- কৃষক, তুমি আমাকে ফ্রি ফসল দাও কারণ আমার টাকা নেই। কেউ দোকানদারকে বলে না আমাকে ফ্রি জিনিসপত্র দাও আমার কাছে টাকা নেই। একজন বাইকার বলে না তেল কেনার টাকা নেই। ফোনে কথা বলবো, নেট চালাব ফ্রি দাও কোম্পানি!

এই সময় বাড়ি ভাড়া মওকুফ করতে পারলে আসলেই ভালো হতো । মোটামুটি সবাই বিপদে পড়েছে । কিন্তু তাই বলে একজন বাড়ির মালিক এর কোনো বিপদ নেই এই রকমটি নয় কিন্তু। তারও দোকান থেকে জিনিস কিনতে হয়। যা তিনি বাড়িভাড়ার টাকা পেয়ে কিনে থাকেন । তিনি যেই জমিটি টাকা জমিয়ে কিনে ছিলেন সেটিও কোনোভাবে ফ্রি ছিল না। সেই জমির উপর ইট সিমেন্ট রড ও ব্যাংক লোনও কিন্তু ফ্রি ছিল না।

এ বিষয়ে সরকারের নির্দিষ্ট নির্দেশনা চাই। বাড়িওয়ালা, ভাড়াটে সবাইকে মিলেই এই বিপদ থেকে বাঁচতে হবে।

যাই হোক সবার বিপদ কেটে যাক। বিপদে আমরা আগেও অনেকেই পড়েছি। এটার একটি সমাধান আশু আসবে ইনশাল্লাহ ।

লেখক : সুইডেন প্রবাসী তরুণ উদ্যোক্তা

Facebook Comments