বানিয়াচংয়ের সাগরদিঘী নিয়ে ব্যারিস্টার সুমনের লাইভ

Avatar

এম. এ. আর. শায়েল

এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে খ্যাত হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা। গাছপালা ঘেরা বিশাল গ্রাম বানিয়াচংয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সাগরদিঘী। সেই সাগরদিঘীর সম্ভাবনাময় দিক নিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেছেন সময়ের আলোচিত ব্যক্তিত্ব হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বাসিন্দা আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

তিনি বলেন, এ দিঘী পর্যটনের জন্য বিখ্যাত এ দিঘী। ১৯৯৭ সালেই এ দিঘীকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত গড়ে তোলা হয়নি। ব্যারিস্টার সুমন ওই দিঘীকে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য হবিগঞ্জের বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী মাহবুব আলী এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, হবিগঞ্জের বেশিরভাগ মানুষ জীবিকার তাগিড়ে বিদেশ চলে যায়, কিন্তু এ দিঘীকে যদি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তা হলে এখানে অধিকাংশ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

জানা যায়, এ সাগর দিঘীর রয়েছে এক রূপকথার কাহিনী। রাজা পদ্মনাথ সিংহ বিয়ে করেছিলেন তরফ অঞ্চলের রাজকুমারী কমলাবতীকে। বিয়ের কিছু দিনের মধ্যেই রাণীর রূপে, গুণের প্রশংসায় প্রজারা মুগ্ধ। রাণীর ঘরে এক ফুটফুটে রাজ কুমারের জন্ম হওয়ার পরেই রাজ্যে পানির অভাব দেখা দেয়। আর ঠিক সেই সময়েই রাজা পদ্মনাথ পরপর তিন দিন স্বপ্নে দেখেন কে যেন রাজাকে বলে দেয় বড় একটি দিঘী খনন করলে রাজ্যের পানির অভাব দূর হয়ে যাবে। তিনি তার স্বপ্নের কথা প্রজাদের সাথে আলোচনা করেন।

পরবর্তীতে রাজা স্বপ্নের ব্যাখ্যা মোতাবেক বানিয়াচং এর মধ্যভাগে এক বিশাল দিঘী খননের আদেশ দেন। এরই মধ্যে রাজা পদ্মনাথ সিংহের ছোট বোন কেউকা রাজ্যে এসে কমলাবতীর প্রশংসা শুনে তা সহ্য করতে পারেননি। কারণ এটা সবাই জানেন যে, ‘ননদ-বউদির সম্পর্ক দা-কুমড়ার ন্যায়। এজন্যেই ‘কেউকা প্রজাদের অর্থের লোভ দেখিয়ে দিঘীর প্রথম কূপ কমলাবতীর নামে উঠাতে রাজি করায়।

কেউকার বিশ্বাস ছিল দিঘীর প্রথম কূপ রাণীর নামে দিলে রাণী অসুস্থ্য হয়ে মারা যাবে। দিঘী খনন শেষে তাতে পানি উঠছে না। তা দেখে রাজা খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েন। তখনই রাজা আবার স্বপ্নে দেখেন কমলাবতী আত্মদান করলেই কেবল দিঘীতে পানি উঠবে। তখন এ স্বপ্নের বিবরণ শুনে কেও তা মেনে নেয়নি। তবে কমলাবতীর একমাত্র ঘনিষ্ঠতম শত্রু ‘কেউকা’ তাতে রাজি ছিল। কিন্তু প্রজাদের সুখের কথা চিন্তা করে রাণী নিজেই সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি দিঘীতে আত্মাহুতি দিবেন। একদিন রাণী সুসজ্জিত হয়ে দিঘীতে নেমে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। রাণী যতো সামনের দিকে যান পানি তত বাড়তে থাকে। এক সময় পানিতে তলিয়ে যান রাণী আর ভেসে ওঠেন না কখনও সাগরদিঘী হতে! সেই থেকে দিঘী আর শুকায়নি। তারপর হতে দিঘীর নামকরণ হয় কমলা রাণীর দিঘী নামে। কমলা রাণীর দিঘীর আয়তন প্রায় ১৩ একর। বিশালাকারের জন্য বর্তমানে এই দিঘী সাঘরদিঘী নামে পরিচিত।

পল্লী কবি জসিম উদ্দিন বর্তমান সাগর দিঘীর পশ্চিম পাড়ে বসে কমলা রাণীর উপন্যাস রচনা করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। অনেক পর্যটক বানিয়াচং এর সাগরদিঘী দেখতে আসেন। কিন্তু অনেক আগুন্তুক অনেক কষ্টে আসার কোন বসার স্থান নেই। গোসল করার জন্য কোনো ঘাটলা নেই। দিঘীর চর্তুদিক ঘুরে দেখার জন্য কোন রাস্তা নেই।

Facebook Comments