ফিরে আসা শ্রমিকদের কী হবে ?

করোনাভাইরাস সংক্রমণের থাবায় গোটা বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির। এর ফলে দেশের কর্মক্ষম মানুষ যেমন কষ্টের শিকার হচ্ছেন, তেমনি একইভাবে প্রবাসীরা বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশিরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তেল অর্থনীতি নির্ভর ওইসব দেশ থেকে ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে কয়েক লাখ বাংলাদেশির। এজন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় যোগাযোগ হচ্ছে এবং প্রবাসীরা ফিরলে তাদের সমাজে আবারও আত্মস্থ করার উপায় ভাবছে সরকার।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তেল নির্ভর এবং বর্তমানে এই প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম শূন্য এবং ভবিষ্যতের বাজারে এটি ঋণাত্মক, এই পরিস্থিতিতে ওসব দেশের অর্থনীতি আগের অবস্থায় নেই।’

পর্যটন নির্ভর মালদ্বীপে ১ লাখ ২০ হাজারের মতো বাংলাদেশি কর্মরত আছে এবং সেখানে গত চার মাস ধরে মৎস্য আহরণ ছাড়া অন্য ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম নেই এবং চাপ আছে তাদের ফেরত আনার।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘পাচঁ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার মালদ্বীপে পর্যটন ও মৎস্য শিল্প ছাড়া অন্য তেমন কোনও শিল্প নেই। কৃষিপণ্যের প্রায় প্রতিটি তাদের আমদানি করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে লক্ষাধিক বিদেশিকে কোনও কাজ ছাড়া তাদের পক্ষে খাওয়ানো মুশকিল বলে তারা আমাদের জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে আমরা তাদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছি এবং সব বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের একটি অংশ ‘ফ্রি ভিসা’ নিয়ে যায় অর্থাৎ ভিসাতে যে কোম্পানির নাম উল্লেখ থাকে ওই কোম্পানিতে তারা কাজ না করে নিজেদের মতো অন্য কাজ খুঁজে নেয় এবং এই ব্যবস্থাটি অবৈধ। সৌদি আরবে কর্মরত ২০ লক্ষাধিক বাংলাদেশির মধ্যে এর সংখ্যা প্রায় তিন লাখ এবং তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই এখন কোনও কাজ নেই।

ওমান, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতারে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কাজ করছে এবং ওসব দেশে অর্থনীতি খারাপ হওয়ার কারণে একটি বড় অংশ ফেরত আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তবে সব মিলিয়ে কত সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরবেন এ তথ্য সুনির্দিষ্ট করে কেউ জানাতে পারেননি। কিন্তু এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে যে বিপুল চাপের সৃষ্টি হবে তা কেউ অস্বীকার করছেন না।

বিদেশ ফেরত বাংলাদেশিরা স্বাভাবিকভাবে অন্য ধরণের জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন এত দিন। তাই অর্থনীতির ক্ষতি হবে এটি নিশ্চিত। কিন্তু এর সামাজিক ক্ষতিও কম নয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে আত্মস্থ করে নেওয়া হবে। এটি কিভাবে, কোন প্রক্রিয়া সম্ভব সেটি কেউ বলছে না।

একজন প্রবাসী শ্রমিকের আয়ে তার পুরো পরিবার চলে। সমাজে তাদের একটি অবস্থান তৈরি হয়। টিনের বাড়ির জায়গায় ওঠে নতুন ইটের বাড়ি। তাই এমন একজন উৎপাদশীল মানুষের কর্মহীন হয়ে পড়া অর্থনীতিতে বিপুল চাপ তৈরি করবে। এটি মোকাবিলার কৌশল নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। শুধু সরকার নয় জনগণকেও এ কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে বিশ্ব বাজারে বেশি প্রভাব রাখা সম্ভব নয়। তাই দেশে ফিরে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ে এমন কোনো উদ্যোগ নিলে তা ফলপ্রসু হতে পারে।

সব মিলিয়ে জনসংখ্যার চাপ মোকাবিলাও বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এনিয়ে সরকার, জনগণ সবাইকে ভাবতে হবে। করোনা ক্রান্তিকাল পাড়ি দিতে এর বিকল্প নেই।

Spread the love

Facebook Comments