ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফাঁসছেন পপি

সিটি ব্যাংকের চাকরিচ্যুত সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরা সুলতানা পপির বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা দাবি জানিয়ে মামলা করেছে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০ আগস্ট মঙ্গলবার এই ব্যাংকের এমডিসহ ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় যৌন হয়রানির মামলা করেছিলেন পপি।

মামলার এজহারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংকে যোগদান করার পরপরই মাসরুর আরেফিনের নিয়মিত ইভটিজিংয়ের শিকার হন তিনি (পপি)। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় এমডি’র এসব আচরণ সহ্য করেই তাকে কাজ করতে হয়। ২০১১ সালে অপর আসামি হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ গাড়িতে লিফট দেওয়ার নাম করে তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে বসেন। লিফটের ভেতরে, সিঁড়িতে, অফিস চলাকালীন তার হয়রানির শিকার হতে হয়।

এ ঘটনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার টিটো এবং তাবাসসুম কায়সার জানেন। বোর্ডের আলোচনায় আসার পর কনসালটেন্ট রাজা দেবনাথ লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। এরপর ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। তারা পপির কাছে জানতে চান, তিনি কী চান। এই ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে একই ফ্লোরে কাজের পরিবেশ নেই জানানোর পর সেপ্টেম্বর মাসে তাকে ট্রান্সফার করা হয়। এরপর ৩১ ডিসেম্বর ডিএমডি অপারেশন মাহিয়া জুনেদ এবং মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান তাকে চাকরি খুঁজতে বলেন।’

এদিকে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পাওয়া তথ্য মতে, পপির কাছে ব্যাংকের পাওনা প্রায় ১ কোটি টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য নানা টালবাহানা করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলাও করেছেন চাকরিচ্যুত হওয়া পপি।

সূত্র জানায়, সিটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইনের ব্যক্তিগত সহকারী মনিরা সুলতানা পপির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা বিরোধী নানা অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পে-রোল ব্যাংকিং বিভাগে তাকে বদলি করা হয়।

বদলির পর থেকে মনিরা সুলতানা পপি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে কোনো ধরনের পূর্ব অনুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের নিয়ম ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে তিনবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ পাঠায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তারপরও তিনি কর্মস্থলে যোগদান না করায় এবং অননুমোদিত অনুপস্থিত থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যহতি পান।

বর্তমানে প্রভিডেন্ট ফান্ড ঋণ, হাউজ বিল্ডিং ঋণ, ক্রেডিট কার্ড ও গাড়ির ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ খাতে মনিরা সুলতানা পপির কাছে তার চাকুরিরত থাকাকালে যাবতীয় প্রাপ্ত টাকা সমন্বয় করার পরও ব্যাংকের প্রায় ১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য তাকে নোটিশও দেয়।

ব্যাংক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের পক্ষ থেকে পাঠানো নোটিশের উত্তর পপি দেননি, বরং তিনি পাল্টা সিটি ব্যাংক এবং ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনাম, সম্মানহানি করাসহ ব্যক্তিগত ক্ষোভ চরিতার্থ, অন্যায় ও অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন।

এরই অংশ হিসেবে সিটি ব্যাংকের এমডি মাশরুর আরেফিন, হেড অব সিএসআরএম আব্দুল ওয়াদুদ ও কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ কাফির বিরুদ্ধে গুলশান থানায় যৌন হয়রানির মামলা করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন মনিরা সুলতানা পপি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, সিটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় নিজস্ব প্রভাব খাটিয়ে মোট ২৫০ দিন নিয়মবহির্ভূতভাবে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ব্যাংকের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন মনিরা সুলতানা পপি। যা ব্যাংকের তদন্তেও বেরিয়ে এসেছে।

Facebook Comments