প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পেঁয়াজের দাম কমবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রনে কার্গো বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দু’এক দিনের মধ্যে বিমানে পেঁয়াজ এসে পৌঁছবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজে মূল্য বৃদ্ধির এই সমস্যা যাতে না থাকে সে লক্ষে কার্গো ভাড়া করে আমরা পেঁয়াজ আনা শুরু করেছি। আগামী কাল-পরশুর মধ্যেই এই বিমানের পেঁয়াজ এসে পৌঁছাবে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় ত্রিবার্ষিক জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকলে সরকার তা খতিয়ে দেখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে যে সমস্যাটা দেখা দিয়েছে, সব দেশেই পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের দেশে কি কারণে এত লাফিয়ে লাফিয়ে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, জানিনা।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই যে, এই ধরনের চক্রান্তের সঙ্গে কেউ জড়িত রয়েছে কি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যদি এখন পেঁয়াজ মজুদ করে দাম বাড়িয়ে দু’টাকা কামাতে চান, তাদের এটাও চিন্তা করতে হবে- পেঁয়াজতো পঁচেও যাবে। সেই পঁচা পেঁয়াজও এখন শুকানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে, মানুষকে কষ্ট দেওয়াটা কেন?’

তিনি ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত লিপ্ত একটি স্বার্থন্বেষী মহলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘মানুষ যখন ভাল থাকে, সুস্থ থাকে। তখন একটি শ্রেণী আছে তারা মনকষ্টে ভোগে, অসুস্থতায় ভোগে। তাদের এই রোগ কীভাবে সারানো যায় সেটা জনগণই বিবেচনা করবে, তারা দেখবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যতই আমরা এগিয়ে যাই এবং মানুষ যত ভাল থাকে। একটা না একটা ইস্যু তৈরি করার এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটা চেষ্টা করা হয়। কাজেই এর পেছনে মূল কারণটা কী সেটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সহযোগী এই সংগঠনটির সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল গুহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠসিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চু বক্তৃতা করেন। সংগঠনের সহ-সভাপতি এবং সম্মেলন অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহবায়ক মতিউর রহমান মতি স্বাগত বক্তৃতা করেন।

এরআগে জাতীয় পতা উত্তোলনের মাধ্যমে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

বক্তৃতা পর্বের শুরুতে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক সালেহ মো. টুটুল। এরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের সকল শহিদ, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় শহিদ এবং দেশের সকল গণ আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

Facebook Comments