প্রধানমন্ত্রী’র কাছে খোলা চিঠি 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

শুভেচ্ছা নিবেন।

দেশবাসীর আপনার প্রতি অনেক আশা। করোনা ঠেকাতে চাইলে সবার আগে দেশবাসীকে খাবারের জোগান দিন।

জনগণের  খাবার, বাসাভাড়া’র  চিন্তা  না থাকলে মনোযোগ দিবে। এ ছাড়া আমাদের আর কোনো সুযোগ নাই। যারা অসুস্থ হবে  তাদের সেবা দিতে হসপিটাল খালি করা দরকার। অন্যদিকে লোকজনকে বাসায় রাখার চেস্টা করা দরকার। রোগী যেন সেবা পাবে সেই গেরান্টি দেওয়া দরকার।

রোগীর পরিস্থিতি বুঝে হসপিটাল স্বীদ্ধান্ত নিবে রোগীকে চিকিৎসার জন্য কোথাও নিবে। ডাক্তারদের বিষয়টায় জনগণের সহযোগিতা দরকার। সহযোগিতা দরকার আইন প্রয়োগ কারী সংস্থা ও মিডিয়ার। খাবার, চিকিৎসা, বাসাভাড়া, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, সব বিলের ব্যাপারে জনগণের চাপ কমে এমন আশ্বাস দিন। সাধ্যমতো সুবিধা দিন।

সেবা দেবার ক্ষেত্রে পুলিশের চেয়ে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনীর, ক্যাডেট, ভলান্টিয়ার  বেশি ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে স্বইচ্ছায় ভলান্টিয়ার হতে চায় এমন ট্রেইনিং শুরু হোক।

সেবা দ্রুত দিতে হবে। এ সময়গুলোতে কোনো ভাবে কোনো কিছুতে দূর্নীতি হতে দেওয়া যাবে না। পুলিশ ও লোকাল প্রশাসন (কমিশনার, মেম্বার )উপরের বাহিনীর আন্ডারে কাজ করবে। প্রত্যেকের দরজায় খাবার চলে যাক। (সাথে চলে যেতে পারে প্রাথমিক ঔষধ।) সাথে নির্দেশনা। যে কেউ যেন যখন তখন যোগাযোগ করতে পারে। কোথাও যেন অমানবিকতা প্রকাশ পায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

মানুষ, মানুষের জন্য। এ দেশে মিলিয়ন মিলিয়ন টাকার অসংখ্য বড় লোক আছে হাজার হাজার। কালো টাকা, সাদা টাকা, অবৈধ টাকার মালিক ভর্তি। তাদের প্রত্যেককে অনুদান দিতে বলুন। দুদক  পুলিশের কাছে, সরকারের কাছে তাদের লিস্ট আছে।  বাড়িওয়ালাদের প্রতি অনুরোধ করুন তারা যেন বিবেচনা করে। তারাও আমাদের মতো মানুষ। অবশ্যই আপনার কথা রাখবে। দুর্যোগ চলাকালীন সরকারি, বেসরকারি  শ্রমিকদের প্রতি মাসে কিছু টাকা দেওয়া যায় কিনা বিবেচনা করুন। দায়িত্ব ভাগ করে দিন। এ বিপর্যয় রোধ করতে সুবিধা হবে। সচেতন ভাবে যত বেশি মানুষ আমরা এর সাথে কাজ করতে পারবো তত দ্রুত আমরা এ বিপর্যয় হতে বেড়িয়ে আসবো।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আপনি বলছেন দেশে এক বছরের খাবার আছে। দেশ জন্মের পর হয়তো এ ভূখণ্ডের মানুষ এমন বিপর্যয়ে পরেনি। সে ভয় পেয়ে গুটিয়ে যাচ্ছে। সে গুটিয়ে গেলে আমরা হেরে যাবো।

আমাদের সবাইকে সজাগ হতে হবে। উন্নত দেশ গুলো সেই চিন্তা কাজ করছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

বিষয়টা টাকার না। সবার সঙ্গে সবার আন্তরিক যোগাযোগের। আমাদের সময় কম। করোনা মোকাবিলার বাহিরে কাউকে চিন্তা করতে দেওয়া যাবে না। জনগণকে আপনার মতো সাহসী করে তুলতে হবে। জনগণের ভয় দূর করুন। আমরা এগিয়ে যাবো।এখন বেশির ভাগ দেশ তাই করছে। ডাক্তারের কাজের পরিবেশ তৈরী করতে আমাদের একজনের পাশে একজন থাকা দরকার। আমরা যেন আলাদা হয়ে যাচ্ছি। আমাদের এক হতে হবে। অন্যান্য দেশর চিত্র আমরা দেখেছি। তাদের এত কিছু থাকতে ও কি অদ্ভুত বাস্তবতা।

আমাদের দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে আগামী যে কোন দিনের চিত্র আমরা আন্দাজ করতে পারি না!

ভয়ার্ত জনগণকে আপনার যোদ্ধা বানাতে হবে। আপনি অভয় দিন। সবাইকে নিয়ে আপনার সুন্দর পরিকল্পনার ফল হোক এ বিপর্যয়ের মুক্তি। পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য শুভ কামনা।

 

বিনীত,

প্রশান্ত অধিকারী।

চিত্রশিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা।

Spread the love

Facebook Comments