পরিবেশনিষ্ঠ স্থপতি বশিরুল হকের প্রয়াণ

মাটির ওপর দৃঢ়ভাবে দাড়িয়ে থাকা শিল্পের নামই স্থাপত্য। স্থপতি বশিরুল হক সে মাটিকেই চিনেছিলেন ভালোভাবে। তাই তার স্থাপত্য কর্মে আন্তর্জাতিকতার সঙ্গে ছোঁয়া থাকে বাঙালিয়ানার। এই কীর্তিমান স্থপতি বশিরুল হক আর নেই।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৪২ সালের ২৪ জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বশিরুল হক। তার বাবা ছিলেন সিলেট জেলার ডেপুটি কালেক্টর। বাবার চাকরির সুবাদে তার শৈশব কাটে সিলেটে। তিনি পাকিস্তানের লাহোরের ন্যাশনাল কলেজ অব আর্টস থেকে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি এবং ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘জন হাইম্‌রিখ টিউশন বৃত্তি’ পান। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

দেশে ফিরে ১৯৭৭ সালে বশিরুল হক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস প্রতিষ্ঠা করে স্থাপত্য চর্চা শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি নকশা সমালোচক হিসেবে ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে যান।

৪৫ বছরের কর্মজীবনে তিন শতাধিক ভবনের নকশা করেছেন তিনি। বশিরুল হকের স্থাপত্যশৈলীতে সাংস্কৃতিক উপাদান, স্থানীয় বিষয়বস্তু, শহুরে টেকসই নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের ব্যবহার লক্ষণীয়। তার নকশা করা ভবনে হস্তনির্মিত ইট, কংক্রিট, ও প্রাকৃতিক কাঠের মতো উপাদানের ব্যবহার দেখা যায়।

তার করা স্থাপনার মধ্যে ছায়ানট, আশা ভবন, মাইডাস সেন্টার ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অন্যতম।

রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

Facebook Comments