নারায়ণগঞ্জের বিক্ষোভ কী বার্তা দিচ্ছে?

পেটের ক্ষুধা লক ডাউন মানে না। এর চিত্রই প্রমাণ হয়েছে গতকাল নারায়ণগঞ্জে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা মারা যাওয়ার পর সে এলাকায় তিনশ পরিবারকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। আর কাশিপুরের এই ওয়ার্ডেই নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এই ওয়ার্ডের শ্রমজীবী মানুষ বিপাকে পড়েন। তাদের ঘরে চাল নেই। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যানরা গত ১৫ দিনেও এখানে কোনো সরকারি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেনি। এ কারণে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা ঘরে ফেরেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর খাদ্য সামগ্রী দেয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ড নিয়েছেন। কিন্তু খাদ্য সামগ্রী নিতে গেলে তারা বলেন, সরকার খাবার দিয়েছে ২০০ মানুষের জন্য। আসছেন আপনারা এক হাজার মানুষ। এতো মানুষের খাবার কোথা থেকে দিব।

সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বারবার দেশে খাদ্যের সংকট নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কি খাদ্যের সরবরাহ নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে? এ কোন চিত্র দেখতে হলো লক ডাউনের নারায়ণগঞ্জে! সরকারি তথ্য ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক উন্মোচিত হলো এ ঘটনায়।

শুধু যে করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয় তা নয়। অনাহারেও মৃত্যু হতে পারে। তাই জীবন বাঁচাতে মানুষ পথে নামবেই। এ সত্য প্রকাশ পেল নারায়ণগঞ্জের ঘটনায়। ঢাকাসহ দেশের বড় অনেক শহরে স্বেচ্ছসেবীরা বস্তিতে বস্তিতে ত্রাণ সরবরাহ করছেন। তবে প্রান্তিক মানুষের কাছে তা পৌছাচ্ছে না। তাই এ বিক্ষোভ।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা এখন মাত্র শুরু। সামনে আরও কঠিন দিন আসছে। তাই সরকারকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবীদেরও আরও তৎপর হতে হবে। নিম্নবিত্ত মানুষকে ঘরে রাখতে হলে সে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিতে হবে। নইলে ক্ষুধার্ত মানুষ কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন কিছুই মানবে না। খাদ্য মজুদ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণকে জানাতে হবে। তাদের আতঙ্ক দূর করতে হবে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্তকেও এই দু:সময়ে এগিয়ে আসতে হবে। খাদ্যের অপচয় রোধ করতে হবে তাদের। চারপাশ ভালো না থাকলে নিজে ভালো থাকা যায় – এ সত্য দূর্যোগকালে সবাইকে বুঝতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। নগর পুড়লে যে দেবালয় টেকে না এ কথা তো সবাই জানেন। তাই নিরন্ন মানুষের পাশে দাড়ানোর এখনই সুবর্ণক্ষণ।

Spread the love

Facebook Comments