টোকিও অলিম্পিক ২০২০ স্থগিত

শেষ পর্যন্ত টোকিও অলিম্পিক ২০২০ স্থগিতের ঘোষণা দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

আগামী এক বছরের জন্য টোকিও ২০২০ অলিম্পিক গেমস স্থগিতের ব্যাপারে মঙ্গলবার একমত হয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রধান থমাস বাখ। গোটা বিশ্ব যখন মহামারি হয়ে ওঠা করোনা ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত তখন এই ব্যতিক্রম সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্মত হয়েছেন তারা।

আইওসি প্রধানের উদ্বৃতি দিয়ে শিনজো আবে বলেন,‘ আমি পরবর্তী এক বছরের জন্য গেমস স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছি, যাতে শতভাগ সম্মতি জ্ঞাপন করেছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। ’

এ্ সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে আয়োজক জাপান। এর আগেও বয়কট বা সন্ত্রাসী হামলার হুমকির মুখে পড়েছিল অলিম্পিক। তারপরও ১৯৪৮ সাল থেকে নিয়মিত ভাবেই চার বছর পর পর এর আয়োজনে কোন রকম ব্যত্যয় ঘটেনি। করোনাভাইরাসের সংক্রমনে বিশে^র সবচেয়ে বড় আসরটিও এই প্রথম স্থগিত করতে বাধ্য হল। ভয়ঙ্কর এই ভাইরাসের সংক্রমনে এ বিশ্বে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। যার কারনে বন্ধ হয়ে গেছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন।
কিন্তু নির্ধারিত সময়েই গেমস আয়োজনে অনড় ছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। তার এই সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি আইওসি।
বিশ^ব্যাপী করোনার সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় চারদিক থেকে ক্রমেই চাপ বেড়ে যাওয়ার পরও টোকিও ২০২০ অলিম্পিক স্থগিত বিষয়ে আইওসি নিজ উদ্যোগে চার সপ্তাহের সময় নেয়ার ঘোষনা দিয়েছিল। সর্বশেষ আজ ঘোষনা আসে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) প্রধান থমাস বাখের সঙ্গে কথা বলবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবে।
কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে এবারের অলিম্পিকে অংশ না নেয়ার ঘোষনা দিয়েছিল। আর মার্কিন অলিম্পিক কমিটি জানায় অলিম্পিক স্থগিত করাই হবে সেরা সমাধান। এভাবে বিভিন্ন মহলের চাপে পড়ার পরও আইওসি বলেছিল এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনো আসেনি।’

এখানো চার মাস বাকী আছে উদ্ধোধনের। আগামী ২৪ জুলাই গেমসের উদ্ধোধন করার কথা ছিল।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী এর আগে বলেছিলেন, একটি পরিপূর্ণ অলিম্পিক আয়োজনে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে সোমবার তিনি প্রথমবারের মত স্বীকার করেন যে, অ্যাথলেটদের সুরক্ষাই তার কাছে অগ্রাধিকার। যদি পরিস্থিতি কঠিন হয় তাহলে গেমস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
এর আগে কানাডা জানায় তারা টোকিও অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে জাপানে যাবে না। করোনায় আক্রান্ত প্রথম দেশ হিসেবে টোকিও অলিম্পিক থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় কানাডা। এরপর অস্ট্রেলিয়াও ঘোষণা দেয় টোকিও অলিম্পিক বর্জনের।

কানাডার অলিম্পিক এবং প্যারালিম্পিক যৌথ বিবৃতিতে বলে, ‘আমরা জানি, অলিম্পিকের মতো এমন বড় আয়োজন পিছিয়ে দেওয়াটা কতটা কঠিন। কিন্তু সবার আগে গুরুত্ব পাবে আমাদের অ্যাথলেটদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা। পাশাপাশি শুধু অ্যাথলেটদের স্বাস্থ্যই নয়, গুরুত্ব দিতে হবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের উপরেও।’

অস্ট্রেলিয়ার অলিম্পিক কমিটি জানায়, ‘এই পরিস্থিতিতে টোকিওতে দল পাঠাবে না অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের মধ্যে টেলিকনফারেন্সের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।’ অস্ট্রেলিয়ার শেফ দ্য মিশন ইয়ান চেস্টারম্যান বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে, জুলাইয়ে কোনো ভাবেই অলিম্পিক হতে পারে না। আমাদের অ্যাথলেটরা যথেষ্ট ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু এই অনিশ্চয়তা এবং চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

তবে সোমবার টোকিও অলিম্পিক সংগঠক কমিটির প্রেসিডেন্ট ইয়োশিরো মোরি এক সাংবাদ সম্মেলনে বলেন,‘আমরা এখনও অলিম্পিক পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। তবে অলিম্পিক যে পিছিয়ে দেওয়া হবে না, সেটাও নিশ্চিত নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন,‘করোনাভাইরাসের আক্রমণে পৃথিবীর যা অবস্থা, তার পরও অলিম্পিক নির্ধারিত সময় হবে, এটা আমি বলব না।’ সাংগঠনিক কমিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিরো মুতো বলেন,‘পিছিয়ে গেলেও অলিম্পিক কোনো ভাবেই বাতিল করা হবে না।’

সর্বশেষ অলিম্পিক বাতিল না করে আগামী বছর পর্যন্ত স্থগিত করার আহ্বান জানান জার্মানির জাতীয় অলিম্পিক

এসোসিয়েশনের (ডিওএসবি) সভাপতি আলফনস হোয়্যারম্যান । নতুন সুচি প্রণয়নের জন্যও আইওসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে অনলাইনে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,‘ এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার হচ্ছে বিশ^বাসীর ¯া^স্থ্য সুরক্ষা। তাই গেমস স্থগিত করাটাই হবে এই মুহূর্তে জনগণের কাছে একটি দারুন খবর।’

Facebook Comments