চাঁদে যাওয়া নভোচারীরা খুশি হয়েছিলেন রিয়াজ গার্মেন্টসের পোশাক পেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ জুলাই ২০১৯ চাঁদ জয়ের ৫০ বছর পূর্ণ হলো। আর চন্দ্র বিজয়ের এই দিনটিকে নানান অনুষ্ঠানমালা দিয়ে স্মরণ করেছে বিশ্ববাসী। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই স্যাটার্ন-৫ রকেটে করে তিনজন মহাকাশচারী অ্যাপোলো-১১ মিশন নিয়ে চাঁদে অবতরণ করেন। চাঁদের মাটিতে প্রথমে মহকাশচারী নীল আর্মস্টং এরপরে এডুইন অলড্রিন সবশেষ নামেন পাইলট মাইকেল কলিন্স।

এসব ঘটনা তো সবারই জানা। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের রিয়াজ গার্মেন্টসের তৈরি পোশাক পরেছিলেন এই তিন নভোচারি। এই পোশাক পেয়ে তারা লিখেছিলেন, “We wish to thank you for your thoughtful gift of three shirts which was presented to us during our visit to Dacca. We will long cherish the memory of the enthusiasm, hospitality end goodwill accorded us by the citizens of Pakistan.

বাংলাদেশ থেকে প্রথম দেশের বাইরে পোশাক রপ্তানি করে রিয়াজ গার্মেন্টস। তাও সেটা ১৯৭৮ সালের কথা। ১৯৭৮ সালে পোশাক রপ্তানি করে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু দেশ গার্মেন্টসকে প্রথম গার্মেন্টস বলা হয় কেননা দেশ গার্মেন্টস প্রথম ১০০% এক্সপোর্ট অরিয়েন্টেড গার্মেন্টস। রিয়াজ গার্মেন্টস তখন দেশের চাহিদাও মেটাত, সেই সাথে বিদেশেও রপ্তানি করত। এই কারণে প্রথম গার্মেন্টস সম্পর্কে দুই রকম তথ্য পাওয়া যায়।

১৯৬৩ সালে পুরোনো ঢাকার উর্দূ রোডে রিয়াজ স্টোর নামে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের প্রথম গার্মেন্টস। ১৯৬৫ সালে রিয়াজ স্টোরের মালিক রিয়াজ উদ্দিন করাচি ভ্রমণকালে একটি গার্মেন্টসকে মাসে ১ লাখ পিস পোশাক রপ্তানি করতে দেখেন। তখন থেকেই প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার বিদেশে পোশাক রপ্তানির স্বপ্ন দেখতে থাকেন। শুরুতে তাঁরা শুধু দেশের চাহিদাই পূরণ করত। এরপর ১৯৭৩ সালে রিয়াজ স্টোরের নাম পরিবর্তন করে রিয়াজ গার্মেন্টস রাখেন এবং বিদেশে পোশাক রপ্তানির জন্য কাজ শুরু করেন। ১৯৭৮ সালের ২৫শে জুলাই টিসিবির সহায়তায় বাংলাদেশ থেকে সর্বপ্রথম ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের পুরুষদের শার্ট রপ্তানি করা হয় ফ্রান্সে। এই পোশাক রপ্তানি নিয়ে বিখ্যাত কার্টুনিস্ট রণবী কার্টুন পর্যন্ত এঁকে ছিলেন। “৪ লক্ষ টাকার পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে ফ্রান্সে” এই শিরোনামে যে কার্টুনটি এঁকে ছিলেন, সেখানে একজন টোকাই আরেকজনকে বলছে, “আরে চিন্তা করিস না, ওই পোশাকগুলো পুরোনো হয়ে আবার আমার দেশেই ফেরত আসবে”।

 

সেই সময় নারী শ্রমিকের কথা ভাবাই যেতনা। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানে নারী শ্রমিক নিয়োগের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হোন। এরপর রিয়াজ গার্মেন্টস এর মালিক রিয়াজ উদ্দিন সর্বপ্রথম নিজের মেয়েকেই রিয়াজ গার্মেন্টেসে পোশাক তৈরির কাজে লাগিয়ে দেন। তাঁর মেয়েকে দেখে আরও কিছু নারী এই পেশায় আসতে আগ্রহী হন এবং আস্তে আস্তে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর বর্তমানে পোশাকে শিল্পে নারী শ্রমিকের সংখ্যাতো একটি ইতিহাস।

রিয়াজ উদ্দিন দেখতেন পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানকে হেয় করত। পূর্ব পাকিস্তানের পোশাক শিল্পে সহায়তা করত না। তখন থেকেই তাঁর মনে এক প্রকার জেদ চেপে উঠে। তারা যদি বাইরে পোশাক রপ্তানি করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারবনা? সেই জেদ থেকেই শুরু করেন রিয়াজ গার্মেন্টস এবং প্রথম পোশাক রপ্তানি করেন। মজার কথা ভদ্রলোক সেই সময় পত্রিকায় প্রচুর বিজ্ঞাপন দিতেন। নায়ক রাজ্জাক তাদের ব্র্যান্ড এ্যাম্বাসেডর ছিলেন। ৮০ দশকে তাদের অ্যাড বিটিভিতে প্রচারিত হতো। আপনারা তাদের লোগোটি লক্ষ্য করে থাকবেন, সেই সময় কত ক্রিয়েটিভ একটি লোগো। লোগোর মধ্য রিয়াজ লেখাটি বাংলা ও ইংরেজি R অক্ষর সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

পরবর্তীতে দেশের অনেক মানুষের প্রচেষ্টায় গার্মেন্টস শিল্প মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়েছে। গার্মেন্টস শিল্পের কারণে সারা বিশ্বের মানুষ আজ বাংলাদেশকে চিনে। কিন্তু একজন পাইওনিয়ার হিসেবে রিয়াজ গার্মেন্টস এর কর্ণধার রিয়াজ উদ্দিনের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

Facebook Comments