গল্প আড্ডায় সিলেটে মুগ্ধতা ছড়ালেন কালজয়ী লেখক সমরেশ মজুমদার

বাতিঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে দুই বাংলার জনপ্রিয় লেখক বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের নতুন বই ‘অপরিচিত জীবনযাপন’। বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে গল্প আড্ডায় মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন এই কালজয়ী লেখক।

১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বেলা ১১টায় বাতিঘর সিলেট শাখায় বইটি প্রকাশিত হয়। এই উপলক্ষে পাঠকের সাথে ‘বই প্রকাশের গল্প’ নামে একটি আড্ডার আয়োজন করে বাতিঘর।

‘বই প্রকাশের গল্প’ বলতে গিয়ে লেখক সমরেশ মজুমদারের তার লেখক হয়ে উঠার গল্প থেকে শুরু করে তার বিভিন্ন উপন্যাসের চরিত্র নিয়েও কথা বলেন। বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উঠে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জনপ্রিয় কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের সাথে কাটানো বিভিন্ন ঘটনার কথা। এসময় তিনি উপস্থিত পাঠকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন।

লেখক ও বাউল গবেষক সুমনকুমার দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাস। এরপর কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার শুরু করেন তার গল্প।

সিলেটকে তার জন্মভূমির সাথে তুলনা করে সমরেশ মজুমদার বলেন, সিলেটে এসে আমি রোমাঞ্চিত হয়েছি। কারণ উত্তরবঙ্গের যে চা বাগানে আমার দীর্ঘ সময় কেটেছে ঠিক সে জায়গার মতই সিলেট। সেই চা বাগান, সেই মাটি। আমি যখন এয়ারপোর্ট থেকে আসছিলাম তখন মনে হচ্ছিল সিলেটের সাথে ভারতের উত্তর বঙ্গের সেই চা বাগানের ও এর আশপাশের এলাকার অনেক মিল।

বাতিঘর নিয়ে তিনি বলেন, বাতিঘরের সাথে আমার সম্পর্ক চট্টগ্রাম থেকে। ওইসময় বাতিঘরে আসার আগে মনে হয়েছিল কি আর হবে একটা বইয়ের দোকানইতো। কিন্তু বাতিঘরে এসে আমার ধারনা পাল্টে গিয়েছিল। বইয়ের গন্ধ আর শয়ে শয়ে মানুষ দেখে আমি বিমোহিত হয়েছিলাম। শুনেছি পাঠকরাই নাকি সিলেটের বাতিঘর উদ্বোধন করেছেন। তাই সিলেটের পাঠকদের জন্যই আমি এসেছি। আপনাদের সামনে এসে আমি পুলকিত আনন্দিত।

বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাশ বলেন, বাতিঘর শুধু বই ব্যবসার প্রতিষ্ঠান নয়। আমরা পাঠকদের জন্য পাঠদের নিয়ে কিছু করতে চাই। তাই আমাদের এই আয়োজন। সিলেটে বাতিঘর শুরুর আগে কথা দিয়েছিলাম আমরা লেখকদের নিয়ে এরকম আড্ডার আয়োজন করবো। সেই কথা রাখতেই বাতিঘরের এই আয়োজন।

গল্প বলা শেষে সমরেশ মজুমদারের হাত থেকে তার অটোগ্রাফসহ প্রি-অর্ডারকারীরা ১৫জন পাঠক ‘অপরিচিত জীবনযাপন’ বইটি গ্রহণ করেন। পরে পাঠক এবং ভক্তরা তার সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পান।

এই অনুষ্ঠানে লেখক বাদল সৈয়দের ‘জন্মজয়’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়। লেখক অসুস্থ থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেনি।

Facebook Comments