গণপরিবহন চালু, ভাড়া বৃদ্ধি ও সাধারণের দূর্গতি

এক নতুন অধ্যায় দেখছে পৃথিবী। চলছে করোনা মহামারীর সংক্রমণ। অব্যহত প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল। এর ভেতরই সাধারণ ছুটি শেষ হলো বাংলাদেশে। এর পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরনের মতই আছে। তবে অর্থনীতি, মানুষের জীবিকা বাঁচাতে লক ডাউন শিথিল অপরিহার্যই ছিল। হার্ড ইমিউনিটির ওপর ভরসা করে বাঁচতে হবে এবারের পর্বে। তবে যেকোনো পরিস্থিতিই শ্রেণি নিরপেক্ষ নয়।

উচ্চবিত্তরা দেশ ছাড়ছেন চাটার্ড বিমানে। প্রচলিত আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হত্যা মামলায় অভিযুক্তরাও এই লক ডাউনে দেশ ছেড়েছেন। ক্ষমতার সঙ্গে স্পষ্ট এই আঁতাত। সাধারণ মানুষের জন্য কোনো সুখবর নেই। উল্টো বাস ভাড়া বৃদ্ধির নতুন সিদ্ধান্তে তারা দিশেহারা।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, সোমবার থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে বাস চলাচল শুরু হচ্ছে। প্রতিটি বাস–মিনিবাসের অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে চালানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছে বিআরটিএ। ফলে পরিবহনমালিকেরা লোকসানের কথা উল্লেখ করে শতভাগ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করেন।
বিআরটিএ’র ভাড়া নির্ধারণে স্থায়ী ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি শনিবার ঘণ্টাখানেকের বৈঠকে ৮০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করে। এরপর এই নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সড়কমন্ত্রী ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত করেন।
সড়ক মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্তে সিদ্ধান্তে বলা হয়, দূরপাল্লার পথে এখন ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৪২ পয়সা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে বর্ধিত ৬০ শতাংশ। এ ছাড়া দূরপাল্লার পথে থাকা সড়ক ও সেতুর টোলও মোট ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত হবে।

ঢাকা ও এর আশপাশে মিনিবাসের কিলোমিটার-প্রতি ভাড়া হার ১ টাকা ৬০ পয়সা। আর বড় বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সা। মিনিবাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা এবং বড় বাসে ৭ টাকা। সোমবার থেকে এর সঙ্গে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া যোগ হবে।

এই ভাড়া হার করোনাকালের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনঃপ্রযোজ্য হবে।

কিন্তু আমরা বাংলাদেশের নাগরিকরা জানি, এখানে কখনোই একবার দাম বাড়ানো হলে পরে আর তা কমে না। বাস ভাড়ার ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সত্য। আর একটি বিষয় নিয়ে অনেকে কথা বলছেন। সেটি হলো, বাসে যে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা হবে তার গ্যারান্টি কি? গাদাগাদি ভিড়ে ঠাঁসা বাসই তো ঢাকার নিত্য দৃশ্য। পরিবহন শ্রমিকদের বাধ্য করার মতো তদারকির ব্যবস্থা প্রশাসন কিভাবে নেবে? তাই একই সঙ্গে ভাড়া বৃদ্ধি ও গণসংক্রমণের এক অনিবার্যতা এখন বাস্তবতা। গণছুটি শেষে তাই গণহত্যার শিকার হবেন সাধারণ জনগণ।

করোনা সারা পৃথিবীকেই আঘাত করেছে। অনেক দেশ ইতোমধ্যে লক ডাউন শিথিল করেছে। কিন্তু একটি পদ্ধতি মাফিক কাজটি করা হয়েছে। বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিমুক্ত এমন ভাবে রেড, অরেঞ্জ, ইয়েলো জোনে নানাভাবে শহরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমাদের কর্তৃপক্ষ এর তোয়াক্কা করেনি। ছুটি শেষে মহামারী বিস্তৃত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। সেই সঙ্গে মৃত্যুও।

তাই গণপরিবহন চালুর প্রক্রিয়া ও এর ভাড়া বৃদ্ধিতে সাধারণের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়নি। বরং ভোগান্তি বাড়লো আগে ধুঁকতে থাকা মানুষের। এখন যেন নিয়তির হাতেই সব কিছু। মানুষকে বাঁচাবার কেউ নেই।

হাসান শাওন
লেখক ও সাংবাদিক

Spread the love

Facebook Comments