কোথা থেকে আসে লুঙ্গি কোথা চলে যায়

লুঙ্গি ড্যান্সের কথা তো আমাদের সকলেরই জানা। পৃথিবীতে লুঙ্গি নিয়ে কতনা রসালো গল্প আছে তা বলে শেষ করা যাবে না। তবে চলুন লুঙ্গির ইতিহাস সম্পর্কে কিছু কথা শুনে নিই।

আরবের লোকেরা ধুতি পরতো লম্বা করে কোচা ছাড়া। পরার ধরন ছিল সেলাইবিহীন লুঙ্গির মতো। পারস্যে এই ধরনের পোশাকের নাম ছিল ‘তাহবন্দ’। বাংলাতে এই শব্দ হয়েছিল ‘তহবন’, ‘তবন’। যদিও এখন ধুতিকে মনে করা হয় হিন্দুদের পরিধেয় পোশাক। কালক্রমে পরনের কৌপিন লম্বা করে পরার রীতি চালু হয়। সেইসঙ্গে কোচার ঝুলও বৃদ্ধি পায়। এই চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি হয় ধুতি। সেকালের মানুষ ধুতি পরতো কাছা দিয়ে। কাছা ছিল ঢিলাঢালা। তবে কর্মজীবী পুরুষ তা পরতো ‘মালকোচা’ দিয়ে। এই ধুতি থেকেই লুঙ্গির সৃষ্টি। ‘লুঙ্গি’ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা পোশাক তবে নামটা এসেছে ‘বর্মি’ শব্দ থেকে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাঙালি মুসলমানদের মাধ্যমে আসা এই শব্দটি ‘তবন’ শব্দটিকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে সিলেট অঞ্চলে এখনো মানুষ লুঙ্গিকে তফন বলে।

যদিও অন্য একটি সূত্র বলছে ভিন্ন কথা, তারা বলছে লুঙ্গির সূচনা হয় দক্ষিণ ভারতের তামিলনাডুতে। ভেস্তি নামক এক ধরনের পোশাককে লুঙ্গির পূর্বসূরী বলে মনে করেন গবেষকরা। ইতিহাসে উল্লেখিত আছে মসলিন কাপড়ের ভেস্তি পোশাক তামিল থেকে ব্যবিলনে রপ্তানী হত। ব্যবিলনের প্রত্নতাত্বিক নিবন্ধে ‘সিন্ধু’ শব্দ খুঁজে পাওয়া যায়। তামিল ভাষায় সিন্ধু অর্থ কাপড় বা পোশাক। ‘বারাদাভারগাল’ নামের তামিলনাডুর জেলে সম্প্রদায় পশ্চিম আফ্রিকা, ইজিপ্ট বা মিশর এবং মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে লুঙ্গি রপ্তানীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সময়ের সাথে, সাদা কাপড়ে ফুল এবং অন্যান্য নকশা চিত্রিত হয়ে পরবর্তীতে লুঙ্গিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে লুঙ্গি বাংলাদেশ, বার্মা, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোয় বেশি জনপ্রিয়।

লুঙ্গি প্রসঙ্গে এ জেড এম শামসুল আলম তার বাঙালি সংস্কৃতি বইতে লিখেছেন,‘বাঙালি মুসলিম ভদ্র শ্রেণির অতীতের পোশাক ছিল পায়জামা, পাঞ্জাবি। সাধারণ মানুষের পোশাক ছিল লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি।’

Facebook Comments