করোনাভাইরাসে রোগীর সংখ্যা ২৬ হাজার ছাড়িয়েছে

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক ১০ হাজার ২০৭টি নমুনা পরীক্ষায় দেশে ১ হাজার ৬১৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা।
দেশে বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৬ হাজার ছাড়িয়েছে। এখন এ ভাইরাসে শনাক্ত ২৬ হাজার ৭৩৮ জন রোগী।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৬ জন মৃত্যুবরণ করেছে। দেশে এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৮৬ জন।

আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ২০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সুস্থ হয়েছেন ২১৪ জন।
শনাক্তের বিবেচনায় দেশে সুস্থতার হার ১৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ বলে ডাক্তার নাসিমা সুলতানা জানান।

গতকালের চেয়ে আজ ৩৬৬ জন বেশি আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে। গতকাল আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ২৫১ জন।
নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১১ হাজার ১৩৮টি। আগের দিন নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল ৯ হাজার ৯১টি। গতকালের চেয়ে আজ ২ হাজার ৪৭টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেড হাসপাতালসহ দেশের ৪৩টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১০ হাজার ২০৭টি। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৮ হাজার ৪৪৯টি। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ১ হাজার ৭৫৮টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৮৫২টি।

তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৩ জন নারী। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, সিলেট বিভাগে ১ জন, রংপুর বিভাগে ৩ জন রয়েছেন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন এবং ১০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ১২ জন, বাসায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ জন।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৩০০ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৩ হাজার ৮১৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১শ’ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৮৯৩ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। মোট আইসোলেশন শয্যার মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৭ হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে রয়েছে ৬ হাজার ৩৪টি।

এসব হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৩৯৯টি। ডায়ালাইসিস ইউনিট রয়েছে ১০৬টি বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৪ হাজার ১১ জনকে। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫১ হাজার ৫০২ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ২৮৭ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬১ জন। বর্তমানে দেশে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫২ হাজার ৯৪১ জন। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৮৪০ জনকে।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) সংগ্রহ হয়েছে ১০ হাজার ৫০টি। বিতরণ হয়েছে ২৫ হাজার ৭৫০টি। এ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ২৩ লাখ ৬ হাজার ৯০৮টি। বিতরণ হয়েছে ২০ লাখ ৭ হাজার ৩২২টি।বর্তমানে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭০৭টি পিপিই মজুদ রয়েছে।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৪টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৬৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮৪টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৮১ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২৪ ঘন্টায় আরও ৩০ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ১৮৯ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, স্থল, নৌ ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ২৯৪ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৬ লাখ ৯১ হাজার ৭৩২ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৯ মে পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ১৬৮ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৬১ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১৯৮ জন এবং এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৭৮০ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৯ মে পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩৭জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ লাখ ৩১ হাজার ৪৫৮ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৩২২-জন এবং এ পর্যন্ত ৩ লাখ ১৬ হাজার ১৬৯ জন।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, রমজানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।

Spread the love

Facebook Comments