করোনাকালের ভাবনা

শুধু ওষুধের দোকান খোলা। তাতেই মনে হচ্ছে অলি-গলিগুলো জমজমাট। আমাদের জানা ছিল না, এত লোক অসুস্থ এ দেশে। এ দেশ ওষুধ কোম্পানির দেশ। করোনাকালে লক ডাউন তা মনে করালো।

আর আছে গার্মেন্ট। গণসংক্রমণের ভয় নেই শ্রমিকদের। জীবনের চেয়ে তাদের কাছে মৃত্যু স্বাভাবিক। তাজরীন, রানা প্লাজা তাই শিখিয়ে গেছে। নইলে লকডাউনে শুধু কারখানা খোলা থাকবে কেন? খোলার স্বীদ্ধান্তের পর কোন প্রখর প্রতিবাদও চোখে পড়েনি। জীবনের চেয়ে চাকরি শ্রেয় মনে হয়েছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া গার্মেন্ট শ্রমিকদের। শত শত মাইল পেরিয়ে, হেটে, ভেঙে ভেঙে পরিবহনে তারা শহরে ঢুকেছেন। শুধু বেতনের আশায়। বেতন হলে মায়ের চিকিৎসা হয়, পাতে ভাত ওঠে, বোনের পড়ার খরচ আসে। তাই করোনা নিয়ে বেশি উদ্বেগ শ্রমিকদের নেই। এদিকে নারায়ণগঞ্জ পরিস্থিতির দিকে যারা চোখ রাখছেন তারা জানেন পরিস্থিতি কতোটা ভয়াবহ।

দুদিন আগে ইফতার পণ্যের দোকান খুলে দেওয়া ঘোষণা হলো। কিন্তু সেখানে কেউ সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। এটি প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল। এখানেও অবহেলার চিহ্ন। সরকারি কাজে কারও মন নেই। দায় সারা কিছু করার চেষ্টা সব জায়গায়।

আসল লড়াই লড়ছেন নিরাপত্তাহীন ডাক্তার, নার্স আর স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা সারাক্ষণ মৃত্যুর ভেতর বাস করছেন। তাই অন্য কিছু তাদের ভাবনায় নেই। সিলেটের ডা. মঈনুদ্দিনের পথেই হাঁটছেন তারা। সরকারি অপ্রতুলতা তারা সামলাচ্ছেন নিজেদের সীমিত সাধ্য দিয়ে।

পুলিশের মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করছেন তারা পরিস্থিতি টের পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তাদের অনেকে আক্রান্তও হয়েছেন। তবুও সাহসীকতার সঙ্গে তারা সক্রিয় আছেন।

এভাবেই চলছে করোনাকালে রমজান। চকবাজারের ইফতার নেই। ইফতারের আগে সন্ধ্যায় ভয়ঙ্করতম রকম জ্যাম নেই। তারাবিতে যাওয়ার তাড়াও নেই। নিত্যদিনের জীবনে এমনভাবেই ব্রেক কষে ধরেছে কোভিড ১৯ ভাইরাস। কবে সব ঠিক হবে তা কেউ জানেন না। তবে সব কি ঠিক হবে? এখন পর্যন্ত দু’লাখেরও বেশি মানুষকে হারানোর ক্ষতি পৃথিবীকে বইতে হবে। প্রত্যাশা থাকবে সমরাস্ত্র প্রতিযোগীতা নয়, মানুষ বাঁচানোর লড়াইয়ে কে এগিয়ে আছেন সে সূচকের দিকে। সবার জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে এর বিকল্প নেই।

Spread the love

Facebook Comments