এগিয়ে যাচ্ছেন নওরীন

নাটক, বিজ্ঞাপন, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা, ক্লাসিক বা আধুনিক নৃত্য পরিবেশন-সব মাধ্যমেই এখন উড়ন্ত সময় তার। সত্যিকারের একজন শিল্পী শিল্পের সব মাধ্যমেই নিজেকে সঠিক মাত্রায় উপস্থাপন করবেন, এটাই স্বাভাবিক। আর এই অসাধারণ কর্মক্ষমতায় পরিপূর্ণ অভিনেত্রীর নাম নওরীন আফরোজা।

মাঠ পর্যায় থেকে টিভি পর্দা- সর্বত্র নওরীনের বিচরণ অনেক আগে থেকে দেখে আসছেন মিডিয়াকর্মী ও দর্শক। লকডাউনের পর থেকে অন্য সব মিডিয়া সংশ্লিষ্টদের মত নওরীনের দিনও কাটছে সপরিবারে, বাড়িতেই। কখনো ছোটবোনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় রাখা দোলনায় দুলছেন, কখনো মুঠোফোনে সোস্যাল মিডিয়ায় ভিডিও কনফারেন্সে আড্ডা দিচ্ছেন, কখনো সহকর্মী এবং বন্ধুদের সাথে জমিয়ে লুডো খেলছেন, কখনো টিকটিক মেকিং আর আপলোড, আবার মাঝে মধ্যে বাড়ীর বাজারঘাট এবং টুকটাক রান্নাবারি করেই করোনাকালের দিনরাত্রী পার করছেন নওরীন।

কিছু সময় দেশ এবং মিডিয়ায় নজর দিচ্ছেন সর্বশেষ বৈশ্মিক পরিস্থিতি জানতে। মন ভালো থাকেনা বেশীর ভাগ সময়। কবে আগের দিন ফিরে আসবে? আবার কবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারবেন? এইসব চিন্তার মাঝেও নিজে এবং পরিবারের সদস্যরা যেন সুস্থ এবং স্বাভাবিক থাকে বাড়ির বড় মেয়ে হিসেবে এই দায় দায়িত্ব রয়েছে নওরীনের।

২০১০ সালে চ্যানেল আইয়ের ৫২ পর্বের ড্রামা সিরিয়াল ‘অতি লোভে তাতী নষ্ট’র একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নওরীন নিজের স্বকীয়তা স্থায়ীভাবে তুলে ধরেন আমাদের আধুনিক মিডিয়ায়। এর আগে ২০০৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এটিএন বাংলার শিশুতোষসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ভূমিকা ক্যামেরার সামনে তার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করেছে। এখন পর্যন্ত এক পর্ব, ধারাবাহিক, টেলিফিল্মসব মিলিয়ে অর্ধশতাধিক টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। অতি লোভে তাতী নষ্ট, মালদ্বীপে সেদিন, সেলফি, আমি এবং আমার ইচ্ছে, অঞ্জলী, ধন্যবাদ ভালোবাসা, উই আর ফ্রেন্ডস, ভালোবাসার রংধনু এমন নাটকগুলো বারবার দর্শকদের মনে করিয়ে দেয় নওরীন আফরোজার স্বকীয়তা।

বিজ্ঞাপনচিত্রেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। অনেক বিজ্ঞাপনের মধ্যে ইউনাইটেড হসপিটাল, মধুমতি সিটি, প্রাণ ফ্রুটো চুইংগাম, আরএফএল এর একাধিক পণ্য, আইসিএল ব্যালেন্স ফান্ড-চলমান এই টিভিসি গুলো মডেল হিসেবেও নওরীনকে ভিন্নভাবে চিহ্নিত করেছে। প্যারাস্যুট বিউটি কনটেস্ট, ম্যাজিক বাউলিয়ানা টিভি প্রোমো, বিজিএমইএ-ইউনিলিভারের ডকুড্রামার কেন্দ্রীয় চরিত্রে নিজের কাজের মুন্সিয়ানা স্পষ্ট করেছেন আরো নওরীন।

এই ডকুড্রামাগুলো তাকে ক্রমশ প্রশংসিত করেছে বাংলাদেশের মিডিয়ায়। এটিএন, চ্যানেল আই, একুশে টিভি, এনটিভি, আরটিভি, বাংলাভিশন, মাছরাঙা, গাজী টিভি, এশিয়ান বলতে গেলে সব চ্যানেলেই নওরীন নানা মাত্রার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন নিয়মিত। লাক্স লাইফস্টইল, ফেয়ার এন্ড লাভলী, সিলভার স্ক্রীন, ফিউচার টেক, ওয়ালটন এশিয়ান মিউািজক, রুপ লাবন্য, স্কুলে অবসরে, শুধু সিনেমার গান, শুভ সকাল এমন জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান গুলোতে নওরীনের সঞ্চালনা টিভি দর্শকদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করে। নাটক বিজ্ঞপন আর টিভি শো নিয়ে অনেক ব্যস্ত সময় কাটতো তার।

নওরীনের ইচ্ছে ছিল কলেজ জীবন পার করে আর্মিতে যোগ দেয়ার। কিন্তু আর্মি’র জন্য যথাযথ উচ্চতা না থাকায় সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। নারায়নগঞ্জ বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স করা নওরীন স্কুল জীবন থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কাজ করতেন পিপলস থিয়েটারে। তার সেই মঞ্চ নাটকের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাকে টিভি পর্দার দিকে এগিয়ে নেয়। এত কাজ করেছেন সেই তুলনায় সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন অনেক কম-? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রচারবিমুখ নওরীন বলেন, ‘সংবাদের শিরোনাম হওয়ার আগে নিজের কাজটা ঠিকমত করতে চাই। সংবাদ কি হলো না হলো তার চেয়ে কি কাজ করতে পারলাম বা পারবো তাতেই আসলে ফোকাস করতে সাচ্ছন্দ বোধ করি। কাজ হলে খবর তো হয়েই যায়।’ নওরীনের মানবিক এবং সামাজিক উদ্যোগও প্রশংসার দাবী রাখে। করোনা শুরুর পর পরই নিজের সাধ্যমত অসহায় মানুষেন পাশে দাঁড়িয়েছেন। দায়িত্ব নিয়েছেন এলাকার কয়েকটি পরিবারের। এই সামাজিকতা যে লকডাউনের পরই শুরু করেছেন তা কিন্তু নয়। মানুষের সেবায় নিজেকে যুক্ত করার প্রয়াসে নওরীন আফরোজা ২০০৭ সালে যোগ দেন দুস্থ মানুষের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা পাওয়া সামাজিক সংগঠন রোটারী ক্লাবে। সামাজিত কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ায় রোটারী ক্লাব ঢাকা প্লাটিনাম ২০২০-২০২১ এর জন্য তাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছে।

Spread the love

Facebook Comments