আরও তরতাজা দুটি প্রাণ বিপন্ন

‌’একটি সভ্য দেশে পুলিশের এই ষড়যন্ত্রে আমি হতবাক ৷ আমি আমার বোনসহ আটক সবার মুক্তি চাই ৷ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার চাই’ কথাগুলো বলেন শিপ্রার ভাই শুভজিত কুমার দেবনাথ। সিফাতের নানা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনায়েত কবির হাওলাদার বলেন, ‘সিফাত সব সময় তার ক্যামেরার কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকে ৷ সে কোনো অপরাধে কখনোই জড়িত ছিল না ৷ কোরবানির ঈদে বাড়ি আসেনি ওই কাজের জন্যই ৷ তার মতো একটি ছেলেকে হত্যা ও মাদক মামলার আসামি করা হয় কিভাবে?

শুধু শিপ্রার ভাই বা সিফাতের নানা নন। এই আক্ষেপ এবং ক্ষোভ বাংলাদেশের সকল চলচ্চিত্রকর্মীর। সোশ্যাল মিডিয়া দিনে দিনে ফুঁসে উঠছে তরুণ চলচ্চিত্র কর্মী ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগের ফ্রিল্যান্স চিত্রগ্রাহক সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং নির্মাতা শিপ্রা রানী দেবনাথের মুক্তির দাবিতে। এরই মধ্যে প্রতিবাদি পোস্টার, স্লোগান ও পোস্টে ভরে যেতে দেখা গেছে ফেসবুকের বিভিন্ন চলচ্চিত্র বিষয়ক পেজ। অফ লাইন অনলাইন দু’জায়গাতেই সরব আছেন তরুণ চলচ্চিত্র কর্মীরা।

জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ডিরেক্টরস গিল্ড, প্রযোজক সমিতিসহ আর যারা যারা আছেন, সিফাত এবং শিপ্রার মুক্তির দাবিতে কথা বলেন! প্রয়োজনে আইনজীবী নিয়োগ দিয়া হেল্প করেন!
সিফাত এবং শিপ্রার পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ফিল্মমেকিংয়ের স্বপ্ন নিয়ে যে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী আছে, তাদেরকে বার্তা দেন যে তারা একা না! মনে রাখবেন, এই ছোটদের হাতেই কিন্তু আমাদের সিনেমার ভবিষ্যত!’

চলচ্চিত্র নির্মাতা জসিম আহমেদ বলেন, ‘সিফাত ও শিপ্রার অবিলম্বে মুক্তি এবং দায়ি পুলিশের বিচার চাই।’

এদিকে ৬ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। তাদের ব্যানারে বড় করে লেখা ছিল ‘আরও তরতাজা দুটি প্রাণ বিপন্ন’।

এসময় তারা ৪ দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, শিপ্রা ও সিফাতের সার্বিক নিরাপত্তা ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, মেজর সিনহা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, আটককৃত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, আটককৃত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক প্রহসন থেকে মুক্তি দিতে হবে।

সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং শিপ্রা রানী দেবনাথ। ছবি : সংগ্রহীত

৩১ জুলাই কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা রাশেদ খান নির্মমভাবে খুন হন পুলিশের গুলিতে। তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজে সেখানে তার সঙ্গে অবস্থান করছিলেন সিফাত, শিপ্রা এবং তাহসিন রিফাত নূর। তাহসিনকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে তার পরিবার।

Spread the love

Facebook Comments