‘আমেরিকানদের চীনা ভাষা শিখতে হবে’

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিপক্ষকে চীনা ইস্যুতে আক্রমণ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনের প্রতি জো বাইডেনের ‘দুর্বলতা’ আছে, এমন অভিযোগ এনে ট্রাম্প বললেন, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নির্বাচিত হলে চীনা ভাষা শিখতে হবে আমেরিকানদের।

রেডিও সঞ্চালক হিউ হিউইটকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচনে জিতি, যুক্তরাষ্ট্রের মালিক হবে চীন। আপনাদের তখন চীনা ভাষা শিখতে হবে, আপনারা সত্যিটা জেনে নিন।’

নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে দ্বন্ধ তৈরি হয়। ফলে দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা বেড়েছে, উত্তাপ দুই দেশের বাণিজ্যেও। বৈরী সম্পর্কের কারণে সম্প্রতি চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি টিকটক নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এছাড়া হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করার নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই তাদের মিত্র দেশ যুক্তরাজ্য তাদের তাদের ফাইভজি নেটওয়ার্কে হুয়াওয়ের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে।

দুই দেশের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। চীনই হয়ে উঠেছে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই পক্ষের বিতর্কের মূল ইস্যু। যদিও নির্বাচনের কারণে এ মুহূর্তে চীন কর্তৃক উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করতে চাইলেন না ট্রাম্প।

ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে তথ্য গোপন করায় চীনকে দোষারোপ করেন ট্রাম্প। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে তার সম্পর্কে ফাটল ধরার কথাও তিনি স্বীকার করেন। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তাইওয়ান সফরে যান যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স অ্যাজার, যা এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কোনো কর্মকর্তার তাইওয়ান সফর।

সম্প্রতি ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা জন বোল্টন তার বইয়ে লিখেছেন, জিনপিংয়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের কতটা গভীর সম্পর্ক ছিল এবং গত বছর জি২০ সম্মেলনে ডিনারের সময় পশ্চিম চীনে উইঘুর মুসলমানদের ক্যাম্প নিয়ে জিনপিংয়ের সাথে তিনি আলোচনাও করেছেন। এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প নিপীড়নের বিষয়টি নিয়ে কোনো নিন্দা প্রকাশ করলেন না। তিনি বরং জন বোল্টনকে একহাত নিলেন। তার কথায়, ‘এভাবে কি আর কেউ বলেছে? সে এটা বানিয়েছে। সে সবকিছু বানাতে পারে। জন বোল্টন একজন অসুস্থ ব্যক্তি। এমনকি জন কোনো স্মার্ট ব্যক্তিও নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল, বলতে পারেন খুবই ভালো সম্পর্ক। তিনি একজন ভদ্রলোক। কিন্তু ভাইরাস নিয়ে চীন যা করেছে তারপর আর তার সঙ্গে সেই ভালো সম্পর্ক নেই আমার।’

ভাইরাসটি কীভাবে তার রাজনৈতিক অবস্থানকে নড়বড়ে করে দিয়েছে তা স্বীকার করে ট্রাম্প বলেন, ‘মহামারী, বলতে পারেন চীনা মহামারী আসার আগ পর্যন্ত আমাকে হারাতে জর্জ ওয়াশিংটনকেও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তো হতো।’

Spread the love

Facebook Comments